হতাশায় নয়, নিজেকে প্রস্তুত করুন এভাবে..

হতাশায় নয়, নিজেকে প্রস্তুত করুন এভাবে..

যেদিন কেউ চাকরি হারিয়ে চোখের পানি মুছছে, সেদিনও কেউ না কেউ চাকরিতে প্রমোশন পেয়ে দামি রেস্টুরেন্টে ট্রিট দিচ্ছে। লাইফে কিছু একটা করতে না পারার কারণে যেদিন আপনাকে ছেড়ে কেউ একজন চলে গেছে, সেদিনও কোনো এক প্রতিষ্ঠিত ছেলের কাছে কয়েকটা মেয়ের বিয়ের বায়োডাটা এসেছে। হাত পা গুটিয়ে বসে না থেকে সিরিয়াসলি এবার লাইফটাকে নিয়ে ভাবুন।

আজীবন সময় দিয়েছেন নিমগাছের নিচে আর এখন বলেন জীবন এত তিতা কেন? দোষটা কার ছিল? যার কিছু নেই, তার কেউ নেই। ভাঙা সিন্দুকে কেউ টাকা রাখেনা, নষ্ট ঘড়ির কেউ যত্ন নেয় না। এই সিম্পল হিসেবটা কেন বুঝেন না?

আপনি যখন রাত জেগে দুনিয়ার হতাশা লিখে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কমেন্টে সিমপ্যাথি আদায় করছেন, তখন হয়তো অপরপ্রান্তে কেউ রাত জেগে আউটসোর্সিং করছে। আপনি কমেন্টে প্রচুর সিমপ্যাথি পাবেন, আর সে পাবে একাউন্টে টাকা। হিসেবটা খুব সিম্পল- যে যেটার জন্য কাজ করেছে সে সেটাই পেয়েছে।

আপনি যখন স্টুডেন্ট লাইফে বাবার টাকায় বন্ধুদের সাথে মাস্তি করে দামি রেস্টুরেন্টে খেয়ে ফেসবুকে চেক ইন দিতেন, তখন আপনার কোনো এক বন্ধু ক্লাস এসাইনমেন্ট আর নোট নিয়ে ব্যস্ত ছিল। কয়েকটা বছর শেষে ফলাফল – সে এখন বড় কোম্পানির সিনিয়র অফিসার হয়ে যখন দামি রেস্টুরেন্টে অফিশিয়াল মিটিং করে, আর আপনি বগলের নিচে দুর্বল সিজিপিএ’র সার্টিফিকেট নিয়ে টঙের দোকানে চা খেতে খেতে চাকরির বিজ্ঞপ্তি খুঁজেন। এতটুকু পার্থক্য তো হওয়ারই কথা!

যে বয়সে লাইফটাকে আপনার জয় করার কথা আপনি সে বয়সে করেছেন এনজয়, তাই যখন এনজয় করার সময় তখন বেকারত্ব জয় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন; এনজয় তো অনেক দূরের বিষয়।

আপনার বন্ধু যখন বিসিএস ক্যাডার কিংবা ব্যাংক অফিসার হয়ে বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছে, আপনি তখন টিকে থাকার জন্য সামান্য একটা চাকরিই খুঁজছেন। কারণ আপনি যখন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ডেটিং করতেন, আপনার এই বন্ধুটিই তখন ক্লাসে বসে নোট করত। আজ আপনার ডেটিং পার্টনারগুলো একটাও নেই। তারা আজ প্রতিষ্ঠিত কারো লাইফ পার্টনার।

দিনশেষে হতাশ হয়ে বলেন -‘শালার, ভাগ্যটাই খারাপ’! No dear, You are totally wrong. আপনার ভাগ্য আজ আপনাকে এখানে আনেনি, আপনিই আপনার ভাগ্যকে এত নিচে নিয়ে এসেছেন। বাড়ির পাশে ময়লা ফেলে তা থেকে কিভাবে ফুলের সুবাস আশা করেন? কাজ যা করেছেন রেজাল্ট ও তাই।

যদি লাইফে কিছুই করতে না পারেন তবে হাঁটতে বসতে, চলতে ফিরতে মানুষ আপনার দিকে বাঁকা চোখে তাকাবেই। যখন আপনার চাকরির ‘এপয়েন্টমেন্ট লেটার’ নিয়ে স্বপ্ন দেখা উচিত ছিল তখন আপনি ব্যস্ত ছিলে ‘লাভ লেটার’ নিয়ে। যদি সঠিক সময়ে প্রেয়সীর হাতে আপনার ভিজিটিং কার্ড তুলে দিতে না পারেন, তবে আপনারই প্রেয়সী দেখবেন তার বিয়ের ইনভাইটেশন কার্ড আপনার হাতে তুলে দিচ্ছে।

যদি সঠিক সময়ে সঠিক ক্যারিয়ার গড়তে না পারেন তবে দেখবেন যার বিয়েতে আপনার বর হওয়ার কথা, তার বিয়েতেই আপনি হয়ে যাবেন ইনভাইটেড গেস্ট। ইয়েস ডিয়ার, এটাই নিয়ম।

আপনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে দেখবেন, আপনার প্রেয়সীর ছেলেই উঠোনে দাঁড়ানো শিখে গেছে। আজীবন এভাবে পছন্দ করবেন আপনি, আর আপনার পছন্দ পৌঁছে যাবে অন্যের ঘরে।

কাদামাটি থাকলে তা দিয়ে আপনি মোনালিসার মূর্তিও বানাতে পারেন, আবার হিংস্র জন্তুও বানাতে পারেন। চয়েজটা আপনার, কাদামাটি কিন্তু একই। একটা পারফ্যাক্ট চয়েজ একটা সঠিক সিদ্ধান্ত দেয়, আর একটা সঠিক সিদ্ধান্ত আস্ত একটা লাইফকেই চেঞ্জ করে দেয়। ইউটিউব থাকলে তা দিয়ে আপনি সারাদিন মুভি দেখে চিল করতে পারেন। আবার এক্সেল,পাওয়ারপয়েন্ট এসব দেখে নিজেকে দক্ষও করে তুলতে পারেন। চয়েজটা আপনার।

বাঘ শিকার করতে আপনি কী নিয়ে যাবেন – বন্দুক নাকি বন্দুকের লাইসেন্স? আপনার কাছে বন্দুকের লাইসেন্স থাকলেই কি বাঘ আপনাকে ভয় পাবে? বাঘ শিকার করতে বন্দুকের লাইসেন্স না, ডাইরেক্ট বন্দুকটাই লাগবে৷ আপনার গ্র‍্যাজুয়েশনের সার্টিফিকেটটা হলো লাইসেন্স, দক্ষতা হলো বন্দুক।

আপনি যখন ইউটিউবে বসে বসে মুভি দেখে চিল করেন, আপনার কোনো এক বন্ধু ঐ একই ইউটিউব দেখে শিখে নেয় এক্সেলের কাজ, পাওয়ারপয়েন্ট এর কাজ। বছরশেষে চাকরিটা তারই হবে, আপনার না। আপনি সারাবছর নিমগাছের নিচে সময় কাটালেন আর এখন বলেন জীবন এত তিতা কেন? এটা কি কিছু হলো!

এই লেখা পড়ে আপনি কী সিদ্ধান্ত নিলেন তা সিরিয়াসলি জানান। দেখি স্মার্ট ডিসিশান মেকার কে কে?
Satyajit Chakraborty