ভুল এই শহরের মধ্যবিত্তদেরই ছিল

ভুল এই শহরের মধ্যবিত্তদেরই ছিল

‘ভুল এই শহরের মধ্যবিত্তদেরই ছিল’

এই নাটকটা হুট করে গতকাল হোম পেইজে আসলো

বন্ধের দিন বিধায় পুরোটা একটানে দেখে ফেললাম

একটা নাটক যে কত সুন্দর এবং স্ট্রং ম্যাসেজ নিয়ে আসতে পারে, এই নাটকটা না দেখলে বুঝতাম না

৪০ মিনিটের পুরো নাটকটাই এই করোনার সময় এক মধবিত্তের সংসারের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে বানানো

নাটকটা দেখে খুব খারাপ লেগেছে… কিছুটা লজ্জাও লেগেছে ভেবে যে এই সময় আমরা কত ফান করছি, বাসার কাজ করতে হচ্ছে দেখে মজা মজার জোকস আপ করেছি বাসায় বসে থেকে

কিন্তু অথচ সেই সময় হাজার হাজার মধ্যবিত্ত পরিবার নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে

কেউ দেখা যাচ্ছে বাচ্চার অনলাইন ক্লাসের জন্য নিজের মোবাইলটা দিয়ে দিয়েছে

কেউ বাসা ভাড়া দিতে পারছে না দেখে লজ্জায় বারান্দায় আসা ছেড়ে দিয়েছে

কেউ হাজারটা টাকা বাঁচানোর জন্য ডিশ লাইন পর্যন্ত কেটে দিয়েছে

এদের অনেকেই জানত না সামনের সপ্তাহে সংসার কিভাবে চলবে

আবার এই লক ডাউনের মাঝে চলে গেলো পরপর ২ টা ঈদ

কত মানুষের যে স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে এই সময়টায়… কত সংসার যে ঢাকা ছেড়ে চলে গেছে

এই এখনও প্রচুর সংসার ঢাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবছে

নাটকটা আমাকে খুব কাঁদিয়েছে কেন জানি

আমার আম্মা সব সময় বলত, ‘বেশি সুখে থাকলে সবসময় নিচের দিকে তাকাবি’

যারা এখনও টিকে আছেন, তাদের অনুরোধ করছি নাটকটা দেখে নেয়ার জন্য

নাটকের প্রচারনার জন্য না… বরং আপনার ভালোর জন্য

মাঝে মাঝে দুঃখ পাওয়ার দরকার আছে… মাঝে মাঝে কাঁদার দরকার আছে

তাতে চোখ যেমন পরিস্কার হয় তেমনই মনটাও পরিস্কার হয়

বলা যায় না এতে হয়ত আপনার আমার মনটা কিছুটা পরিস্কার হওয়ার কারণে আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে এই মুহূর্তে কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসলে বিষয়টা আমি-আপনি কিছুটা অন্যভাবে দেখব

… সত্যি বলতে এই করোনা আমাদের অর্থনীতির ১২ টা বাজিয়ে দিয়ে গেছে

এই অবস্থা থেকে বাংলাদেশের মধ্যবিত্তদের দাঁড়াতে ঠিক কয় বছর লাগবে জানি না

শুধু এটা জানি, খুব শীঘ্রই হয়ত এই মধ্যবিত্ত নামের গ্রুপটাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না

সমাজে থেকে যাবে শুধু নিম্নবিত্ত আর উচ্চবিত্ত

কারন এই মধ্যবিত্তরা না পারে মানুষের কাছে হাত পাততে… না পারে নিজের কথা মুখ ফুটে কাউকে বলতে

করোনার কারণে কোন দেশের কোন খাতে কি লস হয়েছে এটা নিয়ে বড়বড় মাথারা বুলি আওড়াচ্ছে

কিন্তু কেউ বলছে না, বাংলাদেশ নামের একটা দেশের একটা বিশাল জনগোষ্ঠী আজ নাই হবার পথে

এদের সংখ্যা হাজারের ঘরে না … লাখের ঘরে

পৃথিবী সুস্থ হওয়া মানে কিন্তু শুধু ভাইরাসের চলে যাওয়াটা নয়… পৃথিবী সুস্থ হওয়া মানে সবার স্বপ্নগুলোও আবার ফিরে আসা

তা না হলে এই প্রাণহীন ঢাকা শহরটা দিয়ে কি’ই বা করব

সরকার কি করতে পারে এদের জন্য আমি জানি না

প্রণোদনা দিয়ে লাখের ঘরের এই মধ্যবিত্ত নামের জনগোষ্ঠীকে বাঁচানো যাবে না

তবে … তবে দেশটাকে বাঁচানোর বা, মধ্যবিত্তদের আবার ফিরিয়ে আনার উপায় একদমই যে নেই তাও কিন্তু না

একটা তথ্য দেই, এই মুহূর্তে প্রায় ২৬ লক্ষ ভারতীয় বাংলাদেশে কর্মরত অবস্থায় আছে

বাকিটা ভাবেন… নিজেই হিসাব কষেন

এন্ড অফ দ্যা টানেলে যে লাইট একদমই নেই তা কিন্তু না

এদেশের পলিসি মেকারদের একটুখানি স্বদিচ্ছা, আর দেশপ্রেমই আবার অবশ্যই পারবে বাংলাদেশকে চাঙ্গা করতে

এভাবে তথ্য দিয়ে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার পরেও যদি না’ই পারে, তাহলে হয়ত ধরেই নিতে হবে ভুল, এই শহরের মধ্যবিত্তদেরই ছিল।

ছবি লোকেশন : তুরাগ নদী, আশুলিয়া, ঢাকা – বাংলাদেশ।
ছবি ক্লিক: ১৬ই আগষ্ট ২০২০
ছবির ফটো কারিগর: মোঃ হাদিসুর রহমান